জিডিটি নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের ধারাবাহিক দরপতন

গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) আন্তর্জাতিক নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম টানা টানা ষষ্ঠবারের মতো কমেছে।

গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) আন্তর্জাতিক নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম টানা টানা ষষ্ঠবারের মতো কমেছে। সর্বশেষ নিলামে পণ্যগুলোর গড় মূল্য নেমেছে টনপ্রতি ৩ হাজার ৭৬৮ ডলারে, যা আগের নিলামের তুলনায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ কম। খবর এনজেড হেরাল্ড, অ্যাগ্রিল্যান্ড ও ফারমারস উইকলি।

বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, নিম্নমুখী চাহিদা ও বিশ্বব্যাপী সরবরাহ বৃদ্ধি দুগ্ধজাত পণ্যের ধারাবাহিক দরপতনের পেছনে ভূমিকা রাখছে। জিডিটির সর্বশেষ নিলামে চেডার পনিরের দাম কমেছে সবচেয়ে বেশি। প্রতি টনের মূল্য নির্ধারণ হয়েছে ৪ হাজার ৪৪৯ ডলার, যা আগের নিলামের তুলনায় ৬ দশমিক ৬ শতাংশ কম। এ সময় মাখন ও অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাটের (এএমএফ) দাম যথাক্রমে ৪ দশমিক ৩ ও ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে।

ফন্টেরার (নিউজিল্যান্ডের খামারিদের মালিকানাধীন একটি বহুজাতিক ডেইরি প্রতিষ্ঠান) ফার্মগেট (কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ মূল্য) দুধের মূল্যে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলে ননিযুক্ত গুঁড়া দুধ (ডব্লিউএমপি)। জিডিটির ‌এবারের নিলামে পণ্যটির দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের মূল্য নেমেছে ৩ হাজার ৫০৩ ডলারে। ফন্টেরার দ্বিতীয় বৃহত্তম রেফারেন্স পণ্য ননিবিহীন গুঁড়া দুধ (এসএমপি)। এবারের নিলামে পণ্যটির দাম প্রায় স্থিতিশীল ছিল। তবে জিডিটির সর্বশেষ নিলামে বাটার মিল্ক পাউডারের দাম ১ শতাংশ বেড়েছে।

নিউজিল্যান্ড এক্সচেঞ্জের (এনজেডএক্স) হেড অব ডেইরি ইনসাইটস ক্রিস্টিনা আলভারাদো জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ড, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের দেশগুলোয় দুধ উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এছাড়া ক্রেতাদের কাছে বর্তমানে ক্রিসমাস ও চীনা নববর্ষের মতো ছুটির মৌসুমের জন্য প্রয়োজনীয় মজুদ রয়েছে। এ কারণে তারা শুধু প্রয়োজন অনুযায়ী দুগ্ধজাত পণ্য কিনছেন। ফলে ক্রেতাদের অংশগ্রহণ কমে দাম নিম্নমুখী হয়ে উঠেছে।

চলতি বছরের মধ্য মে থেকে জিডিটি নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম কমেছে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া এবারের নিলামে মোট ৩৯ হাজার ৫০৮ টন পণ্য বেচাকেনা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, নিউজিল্যান্ড থেকে সেপ্টেম্বরে ডব্লিউএমপি রফতানির পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া অনেক পণ্য এরই মধ্যে ক্রেতাদের সঙ্গে চুক্তি করে আগে বিক্রি হয়ে গেছে। তাই নতুন নিলামে অংশগ্রহণের জন্য তেমন পণ্য বাকি নেই। ক্রেতারা বর্তমানে মজুদ বাড়াচ্ছেন না। তাই নিলামে অংশগ্রহণ কমে যাচ্ছে।

এছাড়া জিডিটির এবারের নিলামেও চীনের অংশগ্রহণ ছিল সবচেয়ে বেশি। মোট চাহিদার ৫৩ শতাংশের হিস্যা ছিল দেশটির।

আলভারাদো বলেন, ‘সরবরাহ বেশি থাকায় সামনের দিনগুলোয়ও দুগ্ধজাত পণ্যের দাম কম থাকতে পারে। ২০২৬ সালের শুরুতে বাজার ও চাহিদা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সময়ের পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব হবে।’

আরও